উদ্দীপকে প্রতিফলিত সৌন্দর্য এবং 'ঝরনার গান' কবিতায় ঝরনার গতিময়তা ও নিজের রূপ বর্ণনা পুরোপুরি এক নয়। কারণ উদ্দীপকে সৌন্দর্য উপভোগের বিষয়টি মুখ্য হয়ে উঠেছে।
প্রকৃতির অপরূপ শোভা দেখে মানুষ মুগ্ধ হয়। প্রাকৃতিক সৌন্দর্য মানুষের মানসিক প্রশান্তির উৎস। আমরা প্রকৃতির নানা কিছুর সৌন্দর্য উপভোগ করে মুগ্ধ হই এবং সেসবের প্রশংসা করে সৌন্দর্যের প্রতি আমাদের আস্থা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করি।
উদ্দীপকে জলপ্রপাতের সৌন্দর্য উপভোগের দিকটি তুলে ধরা হয়েছে। এখানে জলপ্রপাতকে কেন্দ্র করে মানুষের উচ্ছ্বাস ও আনন্দ প্রকাশ পেয়েছে। তবে ঝরনার ছন্দময় ছুটে চলা বা পাহাড়ের গা বেয়ে নিচে নেমে আসার বর্ণনাটি অনুপস্থিত। 'ঝরনার গান' কবিতায় ঝরনার নিজে চপল পায়ে ধেয়ে চলার যে কথা বলেছে তা উদ্দীপকের ছবিতে প্রকাশ পায়নি। ঝরনার স্বচ্ছন্দ গতি, বুলবুলির বোল সেধে পরির গান গাওয়ার মধ্যে তার আনন্দময় জীবনের যে প্রতিচ্ছবি 'ঝরনার গান' কবিতায় ফুটে উঠেছে সে কথাও উদ্দীপকে নেই। উদ্দীপকে কেবল ঝরনার সৌন্দর্য উপভোগ এবং ঝরনার সৌন্দর্য-মুগ্ধ চোখ প্রত্যশার দিকটি প্রকাশ পেয়েছে।
'ঝরনার গান' কবিতায় ঝরনা তার সৌন্দর্য অবলোকনের জন্য যে প্রত্যাশা করেছে তারই পূর্ণ প্রতিফলন ঘটেছে উদ্দীপকের ছবিতে। কিন্তু ঝরনা তার চলার পথের যে বর্ণনা এবং সৌন্দর্য বিস্তারের যে উপমা দিয়েছে তা আলোচ্য উদ্দীপকে অনুপস্থিত। সেখানে শান্ত ও নীরব প্রকৃতির কথাও প্রকাশ পায়নি। তাই বলা যায় যে, উদ্দীপকে প্রতিফলিত সৌন্দর্য এবং 'ঝরনার গান' কবিতায় ঝরনার গতিময় ছুটে চলা ও রূপ বর্ণনা পুরোপুরি এক নয়।
Related Question
View Allঝরনা চপল পায়ে ছুটে চলে।
'শিথিল সব শিলার পর' বলতে কবি স্তব্ধ পাথরের বুকে আনন্দচিহ্ন রেখে ঝরনার বয়ে চলাকে বোঝাতে চেয়েছেন।
'ঝরনার গান' কবিতায় কবি ঝরনার গতিময়তা এবং প্রাকৃতিক সৌন্দর্য তুলে ধরেছেন। ঝরনা সমস্ত নীরবতা ভেঙে আপন ছন্দে বয়ে চলে। পাখির ডাকহীন নির্জন দুপুর, ভয়ংকর পাহাড়- সবকিছু উপেক্ষা করে সে শিথিল শিলা বেয়ে নিচে নেমে আসে। চলার পথে ঝরনা পাথরের উপর প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের আনন্দচিহ্ন রেখে চলে। এ প্রসঙ্গেই প্রশ্নোক্ত কথাটি বলা হয়েছে।
উদ্দীপকের সঙ্গে 'ঝরনার গান' কবিতার রূপসৌন্দর্যের দিকটি সাদৃশ্যপূর্ণ। বাংলাদেশের প্রকৃতি অপূর্ব সুন্দর।
সবুজ-শ্যামল মাঠ, নদীতে নৌকা, তীরে কাশফুল, মাথার উপরে নীল আকাশ, বন-বনানী, নদী- সাগর, পাহাড়-পর্বত, পাহাড়ের বুক চিরে বয়ে যাওয়া ঝরনা প্রভৃতি আমাদের মুগ্ধ করে।
উদ্দীপকে পলাশ সাহেবের গড়ে তোলা উদ্যানের সৌন্দর্য বর্ণনা করা হয়েছে। প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্যই মানুষের মনে সৌন্দর্যবোধ জন্ম দেয়। প্রকৃতির তুলিতে যে চিত্র ফুটে ওঠে তা-ই মানুষকে শিল্পসৃষ্টিতে অনুপ্রাণিত করে। তাই শিল্পীর নিজের খেয়ালে সাজানো প্রকৃতির সৌন্দর্য তার একার নয়, তা সব মানুষের আনন্দের উৎস। উদ্দীপকের এ সৌন্দর্য 'ঝরনার গান' কবিতার ঝরনার সৌন্দর্যের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ। পাহাড়িকন্যা ঝরনা সমস্ত নীরবতা ভেঙে ছন্দময় শব্দে চঞ্চল ছুটে চলে পাখির ডাকহীন দুপুরে, স্তব্ধ পাথরের বুকে আনন্দচিহ্ন রেখে। চমৎকার তার ধ্বনিমাধুর্য। গিরি থেকে পতিত জলরাশি পাথরের বুকে আঘাত করে চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। ঝরনার এ মনোহর সৌন্দর্য সবাইকে মুগ্ধ করে। এভাবে উদ্দীপক ও 'ঝরনার গান' কবিতার রূপসৌন্দর্য পরস্পর সাদৃশ্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
উদ্দীপকটি 'ঝরনার গান' কবিতার মূল বক্তব্যকে অনেকখানি ধারণ করে। বিশেষ করে সৌন্দর্যচেতনার দিকটি।
প্রকৃতির অপরূপ রূপ দেখে মানুষ মুগ্ধ হয়। সেই মুগ্ধতা থেকেই মানুষের মধ্যে শিল্পবোধ সৃষ্টি হয়। প্রকৃতির সৌন্দর্যই মানুষকে সৌন্দর্য সৃষ্টিতে আগ্রহী করে তোলে। নির্মল প্রকৃতিই তাকে এ কাজে অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে। আর সেই সৌন্দর্য চেতনা থেকেই ব্যক্তিমানুষ নতুন নতুন শিল্পকর্ম সৃষ্টিতে অনুপ্রাণিত হয়।
উদ্দীপকে প্রকৃতির বিচিত্র সৌন্দর্যের বর্ণনা ও তার জন্য সামাজিক বাধা-নিষেধ উপেক্ষা করে পলাশ সাহেবের চেষ্টা ও উদ্যোগটি তুলে ধরা হয়েছে। এই নিপুণতার শিল্পী স্রষ্টা নিজে। স্রষ্টার সেই কর্মকৌশলে তৈরি মানুষ তার অনুভব দিয়ে সৌন্দর্য সৃষ্টি করে। উদ্দীপকে বর্ণিত অনিন্দ্য সৌন্দর্যের সঙ্গে 'ঝরনার গান' কবিতার ঝরনার সৌন্দর্য সাদৃশ্যপূর্ণ। উদ্দীপকে সামাজিক প্রতিবন্ধকতা উপেক্ষা করে ব্যক্তিমানুষের শিল্পসৃষ্টির যে চেতনা প্রকাশ পেয়েছে তা 'ঝরনার গান' কবিতার ভয়ংকর পাহাড়কে উপেক্ষা করে ঝরনার ছুটে চলার চেতনার সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ। এই দিক থেকে সৌন্দর্য সৃষ্টিতে তারা পরস্পর এক ও অভিন্ন।
উদ্দীপকে বর্ণিত প্রাকৃতিক সৌন্দর্য যেমন আমাদের মানসিক শান্তি দেয়, 'ঝরনার গান' কবিতার ঝরনার সৌন্দর্যও তেমনই আমাদের বিমোহিত করে। ঝরনার প্রকৃতিতে সৌন্দর্য বিস্তার এবং উদ্দীপকে সৌন্দর্য বিস্তারের বর্ণনা অভিন্ন। এ কারণেই বলা যায় যে, 'ঝরনার গান' কবিতার মূল বক্তব্যকে উদ্দীপক অনেকখানি ধারণ করে আছে।
'চকোর চায় চন্দ্রমায়' বলতে চকোর পাখির স্নিগ্ধ জোছনালোক প্রত্যাশাকে বোঝানো হয়েছে।
'ঝরনার গান' কবিতায় কবি ঝরনার গতিময়তা ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের দিকটি তুলে ধরেছেন। ঝরনা প্রকৃতির সমস্ত নীরবতা ভেঙে আপন ছন্দে ছুটে চলে। পাখির ডাকহীন নির্জন দুপুর, ভয়ংকর পাহাড় সবকিছু উপেক্ষা করে ঝরনা স্তব্ধ পাথরের বুকে আনন্দের পদচিহ্ন রেখে বয়ে চলে। কবি ঝরনার মনোহর দৃশ্যে মুগ্ধ, বিমোহিত। চকোর পাখি যেমন রাতের বেলা চাঁদের স্নিগ্ধ আলো চায়, কবিও তেমনই ঝরনার সৌন্দর্য উপভোগ করতে চান।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!